শ্রীপুরে দু’বছরেও মেলেনি যমুনা ট্রেনের যাত্রাবিরতি

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুর রেলষ্টেশনে গত দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজনের দাবীর মুখে আন্ত:নগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন অননুমোদিত ভাবে যাতায়াতে দু’মিনিট দাঁড়ালেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যাত্রা বিরতীর অনুমোদন আজও মেলেনি। এ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব এড. মো: রহমত আলী গত বছরে সংসদে বিল আকারে দাবী উত্থাপন করেন এবং মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। শুধু তাই নয় ব্যক্তিগত ভাবে তিনি রেলমন্ত্রীর সাথে একাধিকবার দেখা করে শ্রীপুর বাসীর দুই বছরের দাবী উত্থাপন করেছেন। এতে পাওয়া গেছে শুধু প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতিই। মেলেনি আজও সরকারী ভাবে যাত্রা বিরতীর অনুমোদন।যাদের উদ্যোগে ট্রেনের এ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে রেলভবনে, মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করে শুধু আশ্বাস এবং আশ্বাসই পেয়েছেন। যাত্রা বিরতী থাকলেও অননুমোদিত বিরতী হওয়ার কারণে টিকিট হয়নি আর টিকিট না পাওয়ায় প্রতিনিয়তই যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

শ্রীপুর রেলষ্টেশন থেকে গড়ে প্রতিদিন পাঁচশতাধিক যাত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে তথা জয়দেবপুর, ঢাকা, বিমানবন্দর, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। সবচেয়ে বেশি যাত্রী হয় বৃহস্পতিবার, রবিবার ও সরকারী ছুটির দিনে। বিশেষ করে শ্রীপুর থেকে ঢাকায় অনেক চাকুরীজীবি, শ্রমজীবি, পেশাজীবি পুরুষ-মহিলা সময় বা ট্রাফিক জ্যাম এড়ানোর জন্য প্রতিদিন এই ট্রেনে যাতায়াত করে থাকেন। একদিকে যাত্রীদের টিকিট না থাকায় সরকার গড়ে প্রতি মাসে ৫/৬ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে এর একাংশ যাত্রীদের হয়রানী করে কামিয়ে নিচ্ছে ঐ সব অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এতে পুলিশ, আনসার, নিরাপত্তা বাহিনী ও দালাল চক্ররাও পিছিয়ে নেই। স্থানীয়রা প্রতিদিন সকাল-বিকাল আপ-ডাউনে লাল পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটি থামায়। তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, অনুমান সাড়ে তিন বছর পূর্বে নাশকতা প্রতিরোধ ও আমাদের করণীয় প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে শ্রীপুর রেল ষ্টেশনের প্লাটফর্মে একটি সভায় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যমুনা ট্রেনের যাত্রা বিরতির আশ্বাস দিয়েছিলেন।

স্থানীয় এমপি এড. মো: রহমত আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান আ: জলিলসহ অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা মন্ত্রী ও মহাপরিচালকের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করলেও শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন। তারা মনে করছেন শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি অথচ বাস্তবায়নের বেলায় কিছুই নাই। অভিযোগ উঠেছে, ট্রেন থামানোর কারনে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নামে মামলার হুমকি দেয়া হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। স্থানীয়রা আরও জানান, রেলমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার আশংকায় তিনি এই মহতী কর্মকান্ডের অনুমোদন দিতে পারছেন না।

শ্রীপুর ট্যুরিজমের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জায়দুল কবির জাহিদ, সাধারন সম্পাদক আরিফ মন্ডল, কোষাধ্যক্ষ আমান উল্লাহ সুজন, সাবেক সভাপতি খন্দকার মাসুদ রানা, শ্রীপুর ট্যুরিস্ট যুব উন্নয়ন সমিতির সভাপতি মো: জুবায়ের আহম্মেদ, সাধারন সম্পাদক হিজবুল বাহার, শ্রীপুর বাজার ব্যবসায়ী নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন রতন, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ, বণিক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মন্ডলের নেতৃত্বে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ট্রেনটির যাত্রা বিরতীর দাবীতে আন্দোলন করে আসছে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রী তপন বণিক জানান, শ্রীপুর বাসী যমুনা ট্রেনের যাত্রা বিরতীর জন্য আবেদনের প্রায় দেড় বছর পরে অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল লাল পতাকা দেখিয়ে আপ-ডাউনে দু’মিনিট অননুমোদনহীন ভাবে ট্রেনটি দাঁড় করানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরসহ আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শ্রীপুর ষ্টেশনে যমুনা ট্রেনের দু’মিনিটের যাত্রা বিরতী সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন রেলওয়ে মন্ত্রনালয়ে পাঠালেও অদ্যাবধি কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

জানা যায়, চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় সাড়ে তিন বছর যাবৎ ফাইলটি রেলমন্ত্রনালয়ে পড়ে আছে। প্রায় দু’বছর যাবত আন্দোলন করেও যাত্রা বিরতীর অনুমোদন না মেলায় দিনদিন সংক্ষুদ্ধ হচ্ছেন আন্দোলনকারীসহ স্থানীয় লোকজন। তারা এ দাবী না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের দাবী শ্রীপুরে প্রায় সহ¯্রাধিক শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার মধ্যে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা, শ্রমজীবি, পেশাজীবি শিল্প-কারখানায় কাজ করছেন। ডিজিটাল দেশ গড়ায় তারা অগ্রণী ভুমিকা রাখছেন। শিল্পাঞ্চল খ্যাত এই শ্রীপুরের কোন আন্ত:নগর ট্রেনের স্টপিজ নাই। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কয়েক লাখ শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা, শ্রমজীবি, পেশাজীবি মানুষ শ্রীপুরে প্রতিদিন আসা যাওয়া করে। শ্রীপুর সহ আশপাশের ৭টি উপজেলার যাত্রীরা অবিলম্বে শ্রীপুর ষ্টেশনে যমুনা ট্রেনের যাত্রা বিরতীর অনুমোদনের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছে।

মন্তব্য

মন্তব্য