সালমান খানের যত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

বিনোদন ডেস্ক//
অভিনয়ে যেমন সেরা, তেমনি বদমেজাজী হিসেবেও বলিউডে অদ্বিতীয় তিনি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নানা কাণ্ড ঘটিয়ে সমালোচিত ও বিতর্কিত হয়েছেন। যার কারণে তিন দফায় জেলও খাটতে হয়েছে। সম্প্রতি তেমনি একটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মামলায় পাঁচ বছরের জেল ও ১০ হাজার রূপি জরিমানা হয়েছে তার। বলছি বলিউড সুপারস্টার সালমান প্রসঙ্গে। চলুন তবে জেনেই নেই তার বিতর্কিত কয়েকটি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে।

১৯৯৮ সালের ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়; সিনেমার শুটিং করতে রাজস্থান গিয়েছিলেন সালমান খান। তার সঙ্গে সাইফ আলী খান, সোনালি বেন্দ্রে, টাবু এবং নীলমও ছিলেন। শুটিংয়ের সময় যোধপুরের কাছে কানকানি গ্রামে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২৮ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর- এই তিন দফায় মোট পাঁচটি হরিণ শিকার করেছিলেন তিনি। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার সালমানকে পাঁচ বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে যোধপুর আদালত।

২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। বান্দ্রার হিল রোডে মধ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে এক পথচারীকে চাপা দেন সালমান খান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। ওই ঘটনায় আহ হন আরও চার ব্যক্তি। এমন ঘটনায় মামলা হয় সালমানের বিরুদ্ধে। কিন্তু উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে সে সময় সালমানকে বেকসুর খালাস দেয় মুম্বাই আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে মহারাষ্ট্র সরকার। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে সালমান খানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড নায়িকা ঐশ্বরিয়া রাইয়ের। কিন্তু সালমানের উগ্রতা এবং বদমেজাজের কারণে ২০০০ সালের পর থেকেই তাদের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকে। প্রেমিককে কয়েকবার শোধরানোর সুযোগ দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। কিন্তু উল্টো ২০০৩ সালে কোনো একটি কারণে ‘কুছ না কাহো’ ছবির সেটে ঢুকে ঐশ্বরিয়াকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন সালমান। অভিযোগ, ঐশ্বরিয়াকে ধাক্কা মেরেছিলেন তিনি। ব্রেক আপ হয়ে যায় তাদের। এমনকি, সম্পর্ক ভাঙার পরও নাকি সালমান তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেছেন। এজন্য ঐশ্বরিয়ার পরিবার সালমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছিলেন।

প্রচলিত আছে, ক্যারিয়ারের গোড়ার দিকে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার আগে এক পাকিস্তানি নায়িকার সঙ্গে প্রেম করতেন সালমান খান। ওই নায়িকার নাম সোমি আলি। কোনো একটি কারণে একদিন এই সোমির মাথায় নাকি আস্ত একটা কোকাকোলার বোতল ভেঙেছিলেন সালমান খান। অবশ্য এই ঘটনা আড়ালেই রয়ে গেছে। কেননা, তখন নাকি সালমানের প্রাক্তন প্রেমিকা সোমি নিজেই চেয়েছিলেন ঘটনা প্রকাশ্যে না আসুক।

১৯৯৮ সালে যে অস্ত্র ব্যবহার করে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেছিলেন সালমান খান সেটি ছিল বেআইনি। লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল না সেটির। যার কারণে সে সময় হরিণ হত্যার মামলার পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র রাখার জন্য আলাদা আরও একটি মামলা হয় জনপ্রিয় এই অভিনেতার নামে। অবশ্য প্রমাণের অভাবে ২০১৭ সালে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পান বলিউড ভাইজান।

সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পরে অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম শুরু করেন ঐশ্বরিয়া। এই বিবেককে নাকি ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রেমিক সালমান। মৌখিকভাবে কোনো অনুষ্ঠানে নয়, সালমানের বিরুদ্ধে বিবেক ওবেরয় এমন অভিযোগ তুলেছিলেন একেবারে সংবাদ সম্মেলন ডেকে। ঐশ্বরিয়াকে নিয়েই সালমানের সঙ্গে তার সমস্যাটা তৈরি হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। সে সময় সাংবাদিকদের সামনে বিবেক অভিযোগ করেন, শুধু ঐশ্বরিয়াকে হেনস্তা নয়, তাকেও খুনের হুমকি দিয়েছেন সালমান।

শুধু এগুলো নয়, নানা সময়ে ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরা কেড়ে নেয়া, চড় থাপ্পড় মারা, পার্টিতে সহশিল্পীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভক্তদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার জন্য দেহরক্ষীকে চড় মারা থেকে শুরু করে ছোটখাটো বহু কারণেই বিতর্কিত সালমান খান।

বৃহস্পতিবার হরিণ হত্যার দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর থেকে যোধপুরের সেন্ট্রাল জেলে রয়েছেন ভাইজান। জামিন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ কয়েদিদের মতো সেখানেই কাটাতে হবে সালমানকে।

মন্তব্য

মন্তব্য