নেপালে বিমান দূর্ঘটনায় শ্রীপুরের পাঁচজনের মধ্যে বাবা-মেয়ে নিহত

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নেপালে ত্রিভুবন বিমান বন্দরে গতকাল সোমবার বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের এক পরিবারের পাঁচজন। তারা হলেন এফ এইচ প্রিয়ক(৩২), তার স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি(২৬), মেয়ে তামারার প্রিয়ক(৩), প্রিয়কের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান(২৭), তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা(২৪)। এই পাঁচ জনের মধ্যে প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামারা নিহত হয়েছেন। পররাষ্ট মন্ত্রাণালয় থেকে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামারাকে মৃত্য বলে ঘোষণা করা হযেছে।

প্রিয়কের মা ফিরোজা বেগম ছেলে ও নাতনির জন্য বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তিনি চিৎকার করে বলছেন, আমার নাতিডা কি সুন্দর কইরা ফোনে কথা কইলো- দাদী আমরা বিমানে উঠছি, অনেক বড় ও সুন্দর বিমান, দাদী আরেক বার তোমারে নিয়া বিমানে উঠবো, আমার নাতি সেই যে বিমানে উঠলো আর তো বিমান থেকে নামলো না। আমারে কেডা বিমানে নিয়া যাইবো, আল্লাগো আমার নাতি ও পোলাডারে তুমি ফিরাইয়া দেও।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রিয়ক নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে। পেশায় প্রিয়ক একজন আলোকচিত্র ছিলেন। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে ¯œাতক করেন। একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও পেয়েছেন তিনি। তার বাড়িতে রাতে কান্নার ভেঙ্গে পড়েন আত্বীয় স্বজন ও শত শত লোকজন।

মেহেদী হাসান নেপালের একটি হাসপাতাল থেকে তার বাবা তোফাজ্জ্বল হোসেন ও মাকে ফোনে রাত আটটার দিকে জানান সে তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। প্রিয়ক ও তার মেয়ে তামারার কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না । তাঁদের সামনে সারির আসনে বসেছিলেন প্রিয়ক ও তাঁর মেয়ে। বিমানটি অবতরণের সময় হঠাৎ প্রচন্ড ঝাঁকি অনুভুত হয়, মূর্হুতেই বিমানটি আবার উপরের দিকে উঠতে থাকে এ সময় বিকট শব্দে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তারপর আর কিছু বলতে পারেননি তিনি ।

প্রিয়কের চাচাতো ভাই লুৎফর জানান, প্রিয়ক তার পরিবার নিয়ে ছয়দিনের সফরে নেপাল যাচ্ছিলেন। তার মাকে দেখে রাখার জন্য আমাকে বারবার বলে গেছেন। গত এক বছর আগে থেকেই পরিকল্পনা করছে পরিবারসহ নেপাল বেড়াতে যাবে প্রিয়ক।

মন্তব্য

মন্তব্য