কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্রের ধূম্রজাল: সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চরিত্র হননের চেষ্টা

হালিম সৈকত,কুমিল্লা: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। উপমহাদেশের একটি অন্যতম পুরনো ছাত্র সংগঠন। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর গৌরবের ইতিহাস ছাত্রলীগের। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সেই ছাত্রলীগ এখন আর নেই। ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আসা যাক ছাত্রলীগের তৃণমূল পর্যায়ে। কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের প্রসঙ্গে কথা বলা যাক। কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ধূম্রজাল। ইতোমধ্যে পদপদবী বাগে পেতে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ। ছাত্রলীগের কমিটি গঠন ও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনার। কে হচ্ছেন পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২ দফা নির্দেশক্রমে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সম্মেলন হয়নি। পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারিও পুনরায় তারিখ নির্ধারন করেও সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয়। আর বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নানান ভাবে কমিটি না দিয়ে পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সেই বিতর্কে যুক্ত হচ্ছে বর্তমান কমিটির সভাপতি আবু কাউছার অনিক এবং সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আহমেদ ফকিরের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড। তারা কেবল নামেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক,কাজে নেই । তাদের কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হয়ে তিন বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যবদি তারা কোন কর্মীসভা এমনকি কোন পরিচিতি সভা পর্যন্ত করতে পারেন নি। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পদকের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে সর্বত্র। তাছাড়া কমিটির অন্য কোন সদস্যের মতামতের কোন তোয়াক্কা করে না। কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হলেও সভাপতি নিজ উপজেলায় কোন কমিটি করতে পারেন নি। তিনি ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেছেন বিবাহ করে। তিনি বিবাহিত হলেও তা গোপন রেখেছেন। এলাকায় থাকেন না। চাকরির তদবীর বাণিজ্য করতে করতেই তার সময় চলে যায়। তার পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি বিগত ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার, যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ফকির একজন মাদকাসক্ত, মাদকই যার নেশা। ঢাকার ধানমন্ডিতে প্রায় আড়াই মাস মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন। ফরহাদ ফকিরের বাবা বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবসা করতেন। ফরহাদ ফকিরকে প্রথমে সভাপতি পরে অবনমন করে সাধারণ সম্পাদক করা হয় মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুজ্জামান সোহাগের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মামলার তদবির করার এবং ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম সোহেল সিকদারকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অর্থের বিনিময়ে মুরাদনগর এবং চান্দিনা উপজেলা কমিটি অনুমোদন করার। এবং মুরাদনগরে মৌখিকভাবে কমিটি প্রদান করা হয়েছে যা সাংগঠনিক নিয়মের পরিপন্থী। তাছাড়া হোমনা উপজেলায় যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে তার বয়স ৩১ বছর। ২ বছর হতে চলল এখনও পর্যন্ত কোন কমিটি হয়নি। তিতাস উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় ১ বছর হলো। আজ পর্যন্ত কোন থানায় সম্মেলন করতে পারেননি। সংগঠন শক্তিশালী হবার পরিবর্তে হয়েছে দূর্বল । উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সারওয়ার হোসেন বাবু ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে সংগঠন বেশ তৎপর ছিল। মনে হত উত্তর জেলা আ’লীগ মানেই ছাত্রলীগ। তখন ছাত্রলীগের মধ্যে কর্ম চাঞ্চল্য ছিল। যা বর্তমানে যুবলীগে রয়েছে। বর্তমানে উত্তর জেলা যুবলীগ হচ্ছে সবচেয়ে সক্রিয় সংগঠন। আ’লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার যত কর্মসূচী একমাত্র যুবলীগই সক্রিয়ভাবে পালন করে সারওয়ার হোসেন বাবুর নেতৃত্বে। সারওয়ার হোসেন বাবু ছাত্রলীগে থাকা অবস্থায়ও একই অবস্থা বিরাজমান ছিল।
বর্তমান ছাত্রলীগ একটি নিষ্ক্রিয় সংগঠন। তাই অতি শীঘ্রই নতুন কমিটি আসা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটিতে যারা প্রার্থী তাদের মধ্যে অন্যতম তিতাস উপজেলা আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা (যুদ্ধকালীন প্লাটুন কমান্ডার ) মো. শওকত আলীর ছেলে আব্দুল আলীম সোহাগ।
একটি অনলাইন মিডিয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল আলীম সোহাগ সম্পর্কে লেখা হয়েছে তিনি নাকি খুনী মোস্তাকের বংশধর। প্রকৃতপক্ষে তা নয়। খুনী মোস্তাকের সাথে তাদের কোন সম্পর্কই নেই। ১৯৭৩ সালে আবদুল আলীমের দাদা মারা যান। তিনি একজন গ্রাম্য মাতব্বর ছিলেন। তিনি কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। সোহাগের বাবা তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্লাটুন কমান্ডার। ১৫ আগস্টের পর খুনী মোস্তাকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যে কয়জন আ’লীগ করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম সোহাগের বাবা শওকত আলী। আতাউল গণি ওসমানী এবং জিয়াউর রহমানের নির্বাচনের সময় আঃ আউয়াল সরকারের নেতৃত্বে আ’লীগের যে আহ্বায়ক কমিটি ছিল ওই কমিটিতে সদস্য ছিলেন সোহাগের পিতা। তিতাস উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় তিনি তিতাস উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক ছিলেন এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বর্তমানে উত্তর জেলা আ’লীগের অন্যতম সদস্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং আ’লীগের সিনিয়র নেতাদের ¯ স্নেহভাজন।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, আব্দুল আলীম সোহাগ সম্বন্ধে যা লিখা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। সোহাগ ্একজন ভদ্র ও নম্ৰছেলে যা প্রশাসনসহ সর্বজনবিদিত। সোহাগের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করে পক্ষান্তরে আ’লীগকেই খাটো করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তার বাবা মো. শওকত আলী। তিনি বলেন আমি অত্যন্ত কষ্ট করে তিতাস উপজেলা আ’লীগকে সুসংগঠিত করে রেখেছি। সোহাগের বিরুদ্ধে যা লিখা হয়েছে তা পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছুই না। আমি ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলাম। সেই বাপের সন্তান সোহাগ।
এই বিষয়ে জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক সদস্য সচিব রবিউল আউয়াল রবি বলেন, আব্দুল আলীম সোহাগ একজন ভদ্র ও অমায়িক ছাত্র নেতা। এসব অপ-প্রচার করে তাকে পদ থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না আমি বিশ্বাস করি।
তাছাড়া গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট আব্দুল আলীম সোহাগের পক্ষে রয়েছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ হিংসাত্মক হয়ে এই ধরনের কাজ করতে পারে বলে জানান আব্দুল আলীম সোহাগ। সোহাগের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার চরিত্র হননের চেষ্টা করছে একদল কুচক্রীমহল।
আর বর্তমান কমিটি টিকিয়ে রাখার নীল নকশার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ-প্রচার চালাচ্ছে একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী। বিষয়টি এলাকাবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং সর্বত্রই বইছে নিন্দার ঝড়।
এই দিকে সম্ভাব্য প্রার্থী আল-আমিন সরকার একজন সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। সে আ’লীগ পরিবারের একজন সক্রিয় সদস্য। একটি অখ্যাত অনলাইনে লেখা হয়েছে তার নাকি ছাত্রত্ব নাই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার ছাত্রত্ব এখনও রয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম সরকার আল-আমিনের দাদা এটা তার যোগ্যতা নাকি অযোগ্যতা তা জনগণই বিচার করবেন। জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসিয়ে দেন নি। তিনি তার স্বীয় যোগ্যতায় উত্তর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। কারো দয়ায় নয়। আল আমিনের চাচা আহসানুল আলম কিশোর উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এটাও কি তার অযোগ্যতা? এই সব নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রতিটি সদস্য যার যার স্বীয় যোগ্যতায় খ্যাতির চূড়ায় আসীন। এটাকে আপনি কি বলবেন, পরিবারতন্ত্র ?

মন্তব্য

মন্তব্য