টমেটোর দাম কমে এসেছে ৫ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন

সারা দেশে টমেটোর দাম কমে এসেছে। পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৬ সাল ছাড়া এখন টমেটোর দাম সবচেয়ে কম। পাইকারি বাজারে এক কেজি টমেটো ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বাজারে মান অনুসারে টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। দিন থেকে রাতে দাম আরও কমে আসে। কারওয়ান বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) টমেটো ৩০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এবার শীতে প্রকৃতি বৈরী থাকলেও কৃষকদের সচেতনতায় টমেটো উৎপাদনে কোনো ঘাটতি ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে, পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৬ সাল ছাড়া টমেটোর পাইকারি দর এখন সর্বনিম্ন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১১ টাকা ২৩ পয়সা দরে কেজি প্রতি টমেটো বিক্রি হয়েছিল। এখন পাইকারি বাজারে টমেটোর দাম ১২ টাকা। গত মাসে দাম ছিল ৩৩ টাকা। গত বছর জানুয়ারি মাসে ২১ টাকা ৯ পয়সা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮ টাকা ২১ পয়সা করে টমেটো বিক্রি হয়।

এর আগে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ১৩ টাকা ২৩ পয়সা ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫ টাকা ৩১ পয়সা ছিল টমেটোর দাম। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই দাম ছিল ১৯ টাকা ৮৩ পয়সা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ টাকা ৮৪ পয়সা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে টমেটোর দাম ছিল প্রতি কেজি ১৮ টাকা ৫৭ পয়সা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে দাম ছিল ১১ টাকা ২৩ পয়সা।

এ প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্ট্যাটেসটিকস) মো. আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত এই মৌসুমে টমেটোর দাম কমে আসে। পাঁচ বছরের তুলনামূলক হিসেবে দেখা গেছে, মাঝের ২০১৬ সাল ছাড়া এবার টমেটো কম দামে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো আকার ও মান অনুসারে প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা মো. বাবু প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কুমিল্লার মানসম্মত বড় আকারের টমেটো প্রতি কেজি ১৫ টাকা করে বিক্রি করছেন। পাইকারি দরে এই টমেটো সাড়ে ১৩ টাকা দরে কিনেছেন বলে দাবি করেন। এ ছাড়া কুমিল্লার টক টমেটো বিক্রি করছেন ১০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি দরে এই টমেটো কিনেছেন সাড়ে আট টাকায়।
দুই ধরনের টমেটোর দামই কমে এসেছে বলে প্রথম আলোকে জানান আরেক বিক্রেতা আবদুর রহিম হোসেন। বাবুর দোকানের মতো তাঁর দোকানেও টমেটো ১০ থেকে ১৫ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে নিয়মিত বাজার করেন শামীম হাসান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দিনের চেয়ে রাতে টমেটো আরও কম দামে পাওয়া যায়। তিনি গতকাল শনিবার রাতে এক পাল্লা (পাঁচ কেজিতে এক পাল্লা) টমেটো কিনেছেন ৩০ টাকা দিয়ে। এর মধ্যে কয়েকটি টমেটো কিছুটা নরম হয়ে এলেও বাকিগুলো ভালোই ছিল। প্রতি কেজির দাম পড়েছে মাত্র ছয় টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর কী পরিমাণ টমেটো আবাদ হয়েছে, তা এখনো সংগ্রহ করা হয়নি। এ বিষয়ে তথ্য পেতে জেলায় জেলায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। এপ্রিল মাস নাগাদ আবাদের সম্পূর্ণ তালিকা পাওয়া যেতে পারে। তবে এবার প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ টন টমেটো উৎপাদন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত সবজি আবাদের তথ্য অনুসারে, ৫৪ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ করা হয় এবং উৎপাদন হয় ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টন।

প্রকৃতি বৈরী থাকলেও কৃষকদের পরিশ্রমে টমেটো এবার যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপকরণ) কাজী মো. সাইফুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, এবার শীতে অতিরিক্ত কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তবে কৃষকেরা বসে ছিলেন না। এই পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের যত্নে পরিশ্রমে টমেটো উৎপাদনে ঘাটতি হয়নি।

তিনি জানান, সারা দেশেই টমেটোর আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে বগুড়া, রংপুর ও কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়। তবে ঢাকায় সাধারণত নরসিংদী ও কুমিল্লায় উৎপাদিত টমেটো আসে।

মন্তব্য

মন্তব্য