আদালতের রায় সরকারের নয়

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছর সাজা হওয়ায় প্রকাশ্যে তেমন একটা উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অবশ্য রায় ঘোষণার দিন সংযত থেকেছে শাসক দলের নেতাকর্মীরা। রায়ের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করলেও দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিক্রিয়ায় কথা বলেছেন মেপে মেপে। অনেক কথা বললেও বলেছেন সামান্যই।আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই রায় আদালত দিয়েছে, সরকার নয়। তিনি বলেন, আদালতের রায়কে বিএনপি সংবিধানবিরোধী বলেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নামে তারা দেশজুড়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গতকাল রাতে বরিশাল থেকে ফিরে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আদালতের রায়কে তারা সংবিধানবিরোধী বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। রায়কে ঘিরে যে তা-ব চালিয়েছে তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকায় তা সফল হয়নি। কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির বিচার হয়েছে। এতে করার কী আছে? আমি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা শুনে অবাক হলাম, তিনি কী করে বললেন, এই রায় সরকার দিয়েছে? আদালতের ওপর আস্থা থাকলে তিনি এ কথা বলতে পারতেন না। তারা একদিকে শান্তির কথা বলছেন অন্যদিকে সহিংসতা করছেন। ??এর আগে রায় ঘোষণার পর পরই তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এই রায়ে আমাদের সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মধ্যকার কিছু না, এটা আদালতের বিষয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান, কেউ আইনের ঊর্র্ধ্বে নয়।সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ড. আবদুুর রাজ্জাক, ফরিদুন্নাহার লাইলী, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আমিনুল ইসলাম আমিন, এসএম কামাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, বিপ্লব বড়–য়া, ইকবাল হোসেন অপু, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এবং ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন শাসক দলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ, সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণ, সভাপতি মোল্লা আবু কাওছারের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক শোডাউন করেন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সামনে। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের নেতৃত্বে যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন দলের ধানম-ি কার্যালয়ের সামনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন দেয় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল ধানম-ি কার্যালয়ে। বিগত কমিটির প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে মাজহারুল ইসলাম মানিক, বদিউজ্জামান সোহাগ, জয়দেব নন্দী, শাহীনুর রশিদ সোহেল, আবদুর রহমান জীবন, জিসান আহমেদ, হাসানুজ্জামান তারেকের নেতৃত্বে কয়েকশ সাবেক ছাত্রনেতা দিনভর উপস্থিত ছিলেন এখানে। খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর সেøাগান ধরে এবং বিক্ষিপ্তভাবে মিছিল করে উদযাপন করে শাসক দলের নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য

মন্তব্য