তিতাসে তীব্র গ্যাস সংকট: দিনে জ্বলছে না চুলা

 

মোঃ জুয়েল রানা//‘সকাল ৬টায় গ্যাস যায়, আসে ‍রাত ৯টায়। গ্যাস এলেও চুলা পিট পিট করে জ্বলে। এভাবে রান্না করা যায় না। পুরো শীতের সময়টা এমন যাচ্ছে। এমনও দিন গেছে দিনে ২ ঘণ্টাও গ্যাস থাকে না। এতো শীতের মধ্যে ঠান্ডা খাবার খেতে হচ্ছে। গ্যাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে রান্না করতে হচ্ছে বলা যায়।’দিন প্রতিদিনের প্রতিনিধিকে এভাবেই বলছিলেন, কুমিল্লা তিতাস উপজেলার মাছিমপুর গ্রামেরর বাসিন্দা গ‍ৃহিনী হাওয়া আক্তার। এই গৃহিনীর মতো বহু পরিবারে চুলা জ্বলছে না। ফলে, অনেকেই মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ভোগান্তি চরমে উঠেছে।যেসব এলাকায় গ্যাস সংকট প্রকট তা হচ্ছে-উপজেলার কালাইগোবিন্দ পুর, ঐচারচর, পাঙ্গাশিয়া, উওর দূর্গাপুর ও মাছিমপুরে তীব্র গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় দিনে জ্বলছে না চুলা, রাতে এলেও থাকে অল্প সময়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা য়ায়, এই সব এলাকার গ্যাসের সংকট ও দুর্ভোগ গত ৪ বছর ধরে চলছে । তবে গরম কালে দিনের বেলা গ্যাস আসতে দুপুর হলেও শীতকালে জ্বলছে না চুলা।এছাড়াও দুর্ভোগের কথা জানান, মাছিমপুর বাজারের হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর মালিক করিম ভান্ডারী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাসের চুলা ব্যবহার করতে পারেন না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা চলতে থাকলে হোটেল চালাতে পরবো না। তাছাড়া ছালেহা বেগম নামে আরেক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শীতের মধ্যে গভীর রাতে উঠে পরদিনের রান্না করে রাখতে হয়। এটা অসহনীয়।’ এইভাবে প্রতিদিন যুদ্ধ করে এ অঞ্চলের মানুষদের রান্না-বান্নার কাজ সারতে হচ্ছেএদিকে গ্যাস সংকটের অজুহাতে গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বেড়ে গেছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ডিলাররা গলাকাটা দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপ-এরিয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান ও হেলাল বলেন যে, শীতকালে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম হয়। এছাড়া ঠাণ্ডায় পাইপলাইনে গ্যাসের উপজাত জমে যায়, এতে বাধা পায় গ্যাস সরবরাহ। তবে এ সমস্যা সমাধানেরর জন্য আমরা দ্রুত গতিতে কাজ করছি এবং কুমিল্লা অফিসেও চিঠি পাঠাইছি। আশা করি খুব দ্রুত সমাধান হবে।

মন্তব্য

মন্তব্য