নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত চাঁপাইনবাবগঞ্জশিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (৮লাখ মানুষের জন্য মাত্র ৬জন চিকিৎস)

 

জেলাপ্রতিনিধি: শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে প্রায় ৮ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা। অকান্ত পরিশ্রম করেও চিকিৎসা ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছেন না কর্মরত চিকিৎসকরা। চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা না পেয়ে অনেক রোগী ফেরত যেতে বাধ্য হচ্ছে। শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অফিস সূত্রে জানা গেছে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০জন ও ১৭টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৭জন মোট ৩৭জন এম বিবিএস চিকিৎসকের পদ রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে কর্মস্থলে উপস্থিত আছেন ৬ জন এবং ৩ জন রয়েছে প্রেষণে। বাকী ১৪টি পদে দীর্ঘদিন যাবত শূণ্য রয়েছে। যারা বর্তমনে কর্মরত রয়েছেন তারা হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মো: সফিকুল ইসলাম, জুুনিয়র কলসালটেন্ট (সার্জারী) ডা: মো: আজিজুল ইসলাম, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন) ডা: সালাউদ্দিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা: মোসা: নুরী জান্নাতুন ফেরদৌস ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (যৌন ও চর্ম) ডা: আজিজুল হক, ডেন্টাল সার্জন ডা: ইয়াহিয়া ওমর ফারুক মেডিকেল অফিসার ডা:কুশল কুমার বান্ধ্য ও ডা: আবু শাহাদাৎ মাহফুজ। দুই জন কাগজে কলমে এখানে কর্মরত থাকলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন। তারা হলেন জুনিয়র কলসালটেন্ট (এ্যানেস:) ডা: মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও জুনিয়র কলসালটেন্ট (শিশু) ডা: মো: আবুল কাশেম। তাছাড়া চু, এ্যানেস, কার্ডিও, অর্থো, শিশু, আরএমও সহ মোট ১১বিভাগে চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে শিবগঞ্জ ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৭টি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র রয়েছ্। যে কেন্দ্রগুলিতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার নিয়ম থাকলেও কোন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রেই কোন এমবিবিএস ডাক্তার নেই। প্রত্যেকটিতেই একজন করে ফার্মসিষ্ট দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। উপজেলায় ৫৫টি কমিনিটি সেন্টার থাকলেও ৪৬টিতে কমিনিটি কর্মকর্তা থাকলেও বাকী ৯টিতে কোন কর্মকর্তা নেই। শুধু তাই নয়, সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে কোন কোন কমিনিটি কেন্দ্র বেশীর ভাগ বন্ধই থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন অফিস কর্মকর্তা জানান, দুই বছর যাবত জুনিয়র মেকানিক না থাকায় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে বিভিন্ন সময় বিদ্যুতের সমস্য হলে জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় চিকিৎসক, রোগী ও অফিসে নানা বিদ জটিলতায় পড়তে হয়। তারা আরো জানান, নার্সের পদ ২৫টি থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ২১জন। তারা আরো জানান, প্রতিদিন শত শত রোগীর মধ্যে অনেক রোগীকে জরুরী ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ক্ষেত্রে হঠাৎ করে এ্যাম্বুলেন্স দেয়া সম্ভব হয় না।কারণ ৮লাখ জনগোষ্ঠীর এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। যা দিয়ে রোগীর চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। আলট্রাসোন গ্রাফির একটি মেশিন থাকলেও সেটি ব্যবহার করার জন্য কোন চিকিৎসক না থাকায় সেটি দীর্ঘদিন যাবত অকার্যকর হয়ে আছে। এক্সরে মেশিন আছে তবে বেশীর ভাগ সময় বন্ধ থাকে। কারণ বেশীর ভাগ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট লেগেই থাকে।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) ডা: আজিজুল হক জানান, চিকিৎসক সংকটের কারনে রোগী চিকিৎসা দিতে চরমভাবে হিসশিম খাচ্ছি।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যেন কোন রোগী ফেরত না যায় সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকার পরও মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো জানান,এ প্রতিকুল অবস্থঅর মধ্যেও প্রতিনিধি আউটডোরে প্রায় ৩শ জরুরী বিভাগে ৫০/৬০জন রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছি।স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: সফিকুল ইসলাম চিকিৎসক,আলট্রাসোনগ্রাফি, ও এক্সরে মেশিন বিভিন্ন সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমরা প্রতিমাসেই প্রতিবেদন আকারে উর্দ্ধতন কর্তৃপরে নিকট প্রেরণ করি। এমনকি কয়েকদিন আগে মতবিনিময় সভায় মাননীয় সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীর নিকট মৌখিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: সাইফুল ইসলাম জানান, শুধূ শিবগঞ্জেই নয় সারা দেশে কনসালটেন্টের সংসট চলছে। শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ডিজি মহাদয়ের নিকট আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে চিকিৎসক সংকট দূর হবে।তাছাড়া ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, আলট্রাসোনামেশিন ও এ্যাম্বুলেন্সের জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এগুলো পাবো বলে আশা করছি। তিনি আরো জানান কমিনিটি কিনিকগুলোতে অতিরিক্ত আরো এক কার্টুন করে ঔষধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।

মন্তব্য

মন্তব্য