পটুয়াখালীতে স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও গলাচিপায় চিকনিকান্দী বদ্ধ ভূমির উন্নয়ন হয়নি!!

মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল,পটুয়াখালী//স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের গন কবরের বদ্ধ ভূমির উন্নয়ন হয়নি। সরজমিনে জানা যায়,সময় ১৯৭১, পাক হানাদের নির্বিচারে অসহায় নিরস্ত্র মুক্তি কামি বাঙ্গালী, উত্তর সূতাবাড়িয়া গ্রামের ৩২ জন মানুষের উপর গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তখনকার পাকিস্তানি হাবাদের বর্নানা দিতে গিয়ে, বর্তমান ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বিমল চন্দ্র সমাদ্দার বলেন, ১৯৭১ মুক্তিযোদ্ধের সময় টা মনে হলে এখনো ভয়ে বুক কেপে উঠে,আমার স্ত্রী রানী বালা, বিবাহ যোগ্যা বোন বাসন্তী রানী এবং পল্লি ডাক্তার সত্য রঞ্জন দাস, তার ভাই নিলু দাস, কালি প্রসন্ন সমাদ্দরর ও তার গর্ভবতি স্ত্রী খুকি রানী, বন্মকিম চন্দ্র বসু সহ অনেক তাজা প্রান কেরে নিয়েছিলো তখনকার হায়নার দল। বদ্ধভূমির গন কবরের বর্ননা দিতে গিয়ে আবেগপ্লুত হয়ে কমল সমদ্দার বলেন, এ ইতিহাস কেন আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন? ভূলেই’তো আছি, এখনো কি স্বাধানতা ধরে রাখতে পেরেছি, প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস, ২৬’শে মার্চ ২১ ফেব্রুয়ারী আসলে সরকারি পক্ষ থেকে মনে চাইলে দুই ৪ আনার জিলাপি খাওয়া, তারপর আর কোন খবর’ই নেয়না, দেশের জন্য তাজা রক্ত আর প্রান দিয়ে কি পেলাম এই ২ চার আনার জিলাপি! কথা গুলো বলতে বলতে স্বজন হারানোর বেদনায় কান্নায় চোখে জল গরিয়ে পরে বিমল চন্দ্র সমাদ্দার ও কমল সমাদ্দারের, তারা আরো বলেন, আমাদের সময় শেষ পর্যায়কাল চলছে, কিন্তু যারা জীবন দিয়ে লাল রক্তের পতাকা দিয়ে গেলো, আগামি প্রজন্ম তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকার কি কোন ভূমিকা রাখবে, সবাই ছবি আর ইতিহাস জানতে চায়, কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও বদ্ধভূমি এখনো জঙ্গলে পরিনত অবস্থায় পরে আছে রনাঙ্গনের সাক্ষী হিসেবে, কি হবে ইতিহাস লেখে?। স্বজন হারাদের কষ্টপূর্ণের কথা গুলোর সঠিক কোন উত্তর আমার কাছে নেই। তবে উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চেয়ারম্যান জয়বাংলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ,পটুয়াখালী জেলার ইউনিট সাবেক ডিপুটি কমান্ডার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কার্যকারী সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদ (কেন্দ্রীয় কমিটি) এর মোঃ নিজাম উদ্দিন তালুকদার প্রতিবেদককে জানান, আসলে ইতিহাস মুছে ফেলা যায়না, ১৯৭১ এর স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের এ ঋন কোনদিন শোধ হবেনা যেমন সত্যি, ঠিক তেমনিভাবে জারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের জন্য’ও কিছু করা সম্ভব হয়নি সত্যি। চিকনিকান্দী বদ্ধভূমির জন্য সরকারি ভাবে স্মৃতিফলক স্থান নির্ধারন করার অকার্যকরী ভূমিকা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অনুমোদনের জোর সুপারিশ চলছে, আশা করছি অতিশিঘ্রই চিকনিকান্দী সূতাবাড়িয়া বদ্ধভূমি জাতীয় পর্যায় স্থানপাবে বলে জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য