দেশীয় পরিবেশে বাচ্চা দিল ভিনদেশের ক্যাঙ্গারু

সাইফুল আলম সুমন,নিজস্ব প্রতিবেদক//গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ক্যাঙ্গারু পরিবারের আরও এক নতুন সদস্য যুক্ত হলো। গত ৯ মাস ধরে একটি ক্যাঙ্গারু বাচ্চা জন্ম দিয়ে বুকের থলেতে নিয়ে চলাফেরা করছিল। বুধবার থেকে বাচ্চাটি থলে থেকে কখনও চোখ-মুখ কখনও পা বের করে খেলা করছে। দূর থেকে এ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দর্শনার্থীরা । সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ক্যাঙ্গারু শেডে গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চাকে বুকের থলিতে নিয়ে মা ক্যাঙ্গারু রোদ পোহাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পর বাচ্চটি থলে থেকে মুখ বের করে চার পাশ দেখছে। মাঝে মাঝে বাচ্চাটি থলে থেকে স¤পূর্ণরুপে বের হয়ে মায়ের পাশে শুয়ে থেকে আবার থলিতে ঢুকে যাচ্ছে। পার্কের এই অংশটিতে ক্যাঙ্গারুর থাকার জন্য সবুজ ঘাসে মুড়ানো পাহারি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অপর একটি ক্যাঙ্গারু মা ক্যাঙ্গারুকে কেন্দ্র করে সামনের পায়ে ভর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে।সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৪ সালে দক্ষিণআফ্রিকা থেকে রেড ক্যাঙ্গারু জাতের দুটি নারী ও একটি পুরুষকে সাফারি পার্কে এনে রাখা হয়। এদের মধ্যে একটি ক্যাঙ্গারু গত বছরের মে মাসে একটি বাচ্চা প্রসব করেছিল। এরা গর্ভধারণের ৬ মাস পর অত্যন্ত ছোট আকারের বাচ্চার জন্ম দেয়। জন্মের সময় এদের আকার টিকটিকির মতো হয়ে থাকে যার দৈর্ঘ্য হয় সর্বোচ্চ ৪সেন্টিমিটার। জন্ম দেওয়া বাচ্চা সরাসরি ভূমিষ্ট হয় না। জন্ম নেওয়া বাচ্চাটি ৩মাস ধরে মায়ের বুকে থাকা থলের উষ্ণতায় বড় হতে থাকে। ক্যাঙ্গারুকে খাবার হিসাবে পালং শাক, পাকা কলা, কচি ঘাস, লতাপাতা ও অন্যান্য শস্য খাবার হিসাবে দেওয়া হয়।পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন জানান, ৬মাস ধরে বাচ্চা গর্ভে ধারণ করার পর এরা তা পকেটে অপসারণ করে। পরবর্তীতে আরও ৩ থেকে ৪মাস সময় ধরে বাচ্চা থলিতেই থাকে। এদের বুকের থলির ভেতর নিপল থাকায় বাচ্চা থলিতে থাকা অবস্থায় মায়ের দুধ খেতে পারে। এই ক্যাঙ্গারুটি এর আগেও বাচ্চা দিয়েছিল। বর্তমানে সে আরও একটি মেয়ে বাচ্চা প্রসব করেছে। স্বভাবজাত কারনে ৯মাসের পরে আরও ১মাস ধরে বাচ্চাটি থলে থেকে মাঝে মাঝে বাইরে অবস্থান করে আবার ভেতরে চলে যায়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোতালেব হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ক্যাঙ্গারু বিদেশি পরিবেশের প্রাণী। আমরা এখানে প্রাণীগুলোকে বিশেষ পরিবেশে বড় করেছি। সে তার প্রাকৃতিক পরিবেশের মতোই এই পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিয়েছে বলেই গত বছর ও এই বছর বাচ্চা প্রসব করেছে। কিছুদিন পর বাচ্চাটিকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে পার্কে দর্শনার্থীর কাছে এটি বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করবে।

মন্তব্য

মন্তব্য