আগের বেতন জানতে চাওয়া যাবে না

কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে অন্যতম যে প্রশ্ন শুনতে হয় তা হলো, আগের প্রতিষ্ঠানে কত বেতন পেতেন? নতুন প্রতিষ্ঠানে বেতন ঠিক হওয়ার পেছনে আগের প্রতিষ্ঠানে প্রাপ্ত বেতন অন্যতম ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নতুন আইন করা হয়েছে। এর ফলে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রার্থীকে জিজ্ঞেস করতে পারবে না, আগের প্রতিষ্ঠানে তিনি কত বেতন পেতেন। মূলত বেতনবৈষম্যের বিষয়টি রুখতেই এই পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কই প্রথম শহর, যেখানে আইন করে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো চাকরিদাতা যদি প্রার্থীর আগের প্রতিষ্ঠানের বেতন সম্পর্কে জানতে চান কিংবা কোনো নথি ঘেঁটে তা বের করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁকে আড়াই লাখ ডলার জরিমানা করা হবে।
শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, আগের প্রতিষ্ঠানের বেতন জানতে চাইলে ভারসাম্যহীন বেতনকাঠামো বহাল থাকবে। ব্যক্তির যোগ্যতা এবং আয় করার সক্ষমতার পরিবর্তে বরং আগের প্রতিষ্ঠানের বেতনের ভিত্তিতে নতুন প্রতিষ্ঠানে বেতন নির্ধারিত হবে।
নিউইয়র্কের সরকারি আইনজীবী লেতিতিয়া জেমস বলেন, ‘আগের বেতন সম্পর্কে জানতে চাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে আমরা বেতনবৈষম্যের পথ বন্ধ করে দিচ্ছি। এই বিষয়টি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
নিউইয়র্ক শহরে মানবাধিকার কমিশনার কারমেলিন ম্যালালিস এক বিবৃতিতে বলেন, নারী এবং বিভিন্ন বর্ণের মানুষের যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন পাওয়া উচিত। তিনি বর্তমানে কিংবা এর আগে কী পরিমাণ বেতন পেতেন তা দিয়ে নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণ হওয়া উচিত নয়। এই আইন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ বেতনের আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্যের অন্য রাজ্যগুলো একই ধরনের আইন করেছে, তবে তা এখনো কার্যকর হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে নারী কর্মজীবীরা পুরুষের বেতনের ৮০ শতাংশ পান। আর ওয়াশিংটনভিত্তিক ওমেনস পলিসি রিসার্চের পরিসংখ্যান বলছে, নিউইয়র্ক রাজ্যের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় শ্রম দেওয়ার জন্য পুরুষ যেখানে এক ডলার পান, নারী সেখানে পান ৮৭ সেন্ট।
জানা গেছে, নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি খাতের চাকরিদাতাদের অলাভজনক সংগঠন পার্টনারশিপ ফর নিউইয়র্ক সিটি এই আইনের প্রধান বিরোধিতাকারী ছিল।

মন্তব্য

মন্তব্য