হেলমেটের যত্ন নিন

বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ঠিকাদার মনির হোসেনকে ব্যবসায়িক কাজে প্রতিদিনই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে যেতে হয়। তাই জুতা-জামাটা চকচকে রাখা একরকম বাধ্যতামূলক। মোটরসাইকেলটাও বেশ, কেবল মাথার হেলমেটটাই কেমন যেন! রং ওঠা, ঘোলা কাচ আর ভেতরে ছেঁড়াখোঁড়া বিশ্রী অবস্থা।

মনির হোসেনের মতো ঘোলা কাচ আর দুর্গন্ধযুক্ত হেলমেটের মালিকের সংখ্যা ঢাকা শহরে কম নয়। সময় ও খরচ বাঁচাতে নগরে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। ট্রাফিক আইনের দায় মেটাতে হেলমেটও রয়েছে প্রায় সবার। কিন্তু পরতে অনীহা। মাথা ভারী লাগে, বাতাস লাগে না, গরম লাগে, মাথা ঘামে, ঘাম-ধুলাবালিতে ভেতরটা ময়লা, বিশ্রী গন্ধ, কাচ ঘোলা ইত্যাদি নানা অজুহাত নানাজনের। আর একবার হেলমেট খুলে পাশে বা পেছনে ঝুলিয়ে রাখা হলে মোটরসাইকেলের সঙ্গে অবিরাম ঘষাঘষিতে সেটার ছাল-চামড়া উঠে যায়, কাচ ঘোলা হয়ে যায় খুবই দ্রুত। দৃশ্যমান ময়লা ও ছাল-চামড়া ওঠা হেলমেট আবার মাথায় তুলতে তো সত্যি রুচিতে বাধে।

মোটরসাইকেলচালকদের অনেকে তাঁর জুতাজোড়ার যতটুকু যত্ন করেন তার সিকিভাগ মনোযোগও পায় না মাথার ওপরে থাকা হেলমেটটায়। সকালে উঠে কার চকচকে জুতো আর নোংরা হেলমেট পরতে ভালো লাগে! হেলমেট পরার উপকারিতা আর এর যত্নটা জানলে অভ্যাসটা গড়তে সহজ হয়।যাঁরা মাথায় হাওয়া লাগিয়ে ঘুরতে চান তাঁদের জন্য বলতে হচ্ছে, হেলমেট যে শুধু দুর্ঘটনায় জীবন বাঁচায় তা-ই নয়, এটি আপনার চোখ-মুখ-নাককেও সুস্থ-স্বাভাবিক রাখে। হেলমেট পরলে কাচটা নামিয়েই চালানোর অভ্যাস করুন। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরামর্শক ইশরাত জাহান বললেন, হেলমেটের কাচটা নামিয়ে পরলে ধুলোবালি সরাসরি চোখে-নাকে ঢুকতে পারে না। ধুলোবালি চোখে নানা জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ করে শীতের আগে আর শীতের শেষে ধুলার মৌসুমটাতে চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। ধুলোবালির কারণে চোখ ওঠা রোগটা আরও জটিল আকার ধারণ করছে, সংক্রমণ চোখের রেটিনা পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া যারা একটু ধুলোবালির বিষয়ে সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে হেলমেটটা হতে পারে কার্যকর প্রতিরক্ষা।

আবার কাচ নামিয়ে হেলমেটের ব্যবহার ত্বক আর চুলের উজ্জ্বলতাটাও নাকি বাড়িয়ে দেয়! হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে বাতাসের দাপটে অনেকের চুল উড়ে যায়, ধুলোবালিতে ভর্তি হয় মাথা। আর যাদের হেলমেট পরলে মাথা ঘামে তাদের জন্য হেলমেটের ভেতরের স্তরটি পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হেলমেটের যত্নআত্তি

হেলমেট কেনার সময় কেবল মাথার মাপটা বুঝে কিনবেন। মোটামুটি মানের হেলমেটগুলোর চারটা স্তর। সবার ওপরে প্লাস্টিক বা ফাইবারের শক্ত খোলস, তার নিচে কর্কশিটের আবরণ, এর নিচে ফোম, সবার নিচে থাকে কাপড়ের আচ্ছাদন। অনেক হেলমেটের এই ফোমসহ কাপড়ের আচ্ছাদন খুলে ধুয়ে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা আছে। যেগুলোয় নেই সেগুলোর ক্ষেত্রে সুযোগ হলে হেলমেটটা নিয়মিত রোদে দিতে পারেন। এভাবে ঘামে ভেজা মাথার ত্বকের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। এ ছাড়া হেলমেটের ভেতরটা সরাসরি ডিটারজেন্টে ডুবিয়ে, ডেটল বা স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে ভেতরটা খুব ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। হেলমেটের সামনের কাচ পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন একবার মুছলেই যথেষ্ট। সপ্তাহে এক দিন হাতে সামান্য সাবান লাগিয়ে কাচটার দুই পাশে পরিষ্কার করে আবার শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন।

এভাবে করতে পারলে আপনার হেলমেটের কাচটি দীর্ঘদিন স্বচ্ছ থাকবে, রাতের বেলায়ও এই কাচ আপনাকে সুরক্ষা দেবে। যদি ভেতরটা পরিষ্কার করাটা ঝামেলার মনে হয় সে ক্ষেত্রে হেলমেটের নিচে পাতলা রুমাল বা সুতি কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে হেলমেটের একেবারে নিচের আচ্ছাদনটা আপনার মাথার সংস্পর্শে থাকবে না। আর ঘেমে গেলে বা ময়লা হলে রুমাল নিয়ে ধুয়ে ফেললেই হলো।

মন্তব্য

মন্তব্য